১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বর্ষা মৌসুমেও ভোলার নদীতে অসংখ্য ডুবোচর

অনলাইন ডেস্ক ।। বর্ষা মৌসুমেও ভোলার মেঘনায় ডুবোচর চর জেগে ওঠার কারণে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ডুবোচরের কারণে মাছ শিকার করতে গিয়েও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন জেলেরা।

এছাড়াও একই কারণে নদীর গতিপথে পাল্টা স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে একদিকে যেমন নদী ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে অন্যদিকে বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে শহররক্ষা বাঁধ। এ অবস্থায় ডুবোচরগুলোকে কেটে ড্রেজিং করার দাবি ভুক্তভোগীদের।

নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও ভোলার মেঘনা নদীতে এখনো অসংখ্য ডুবোচর জেগে রয়েছে। বিশেষ করে ধনিয়া, কাচিয়া ও ইলিশা চ্যানেলে রয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। এসব চরের কারণে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। আর এ কারণেই অনেক ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে নৌযানকে। কখনো আবার মাঝ নদীতেই আটকে যায় নৌযান। শুধু তাই নয়, মাছ শিকারে গিয়েও বিপাকে পড়ছেন জেলেরা।

ফেলন, জাহাঙ্গীর, সবুজসহ কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নৌকা চরে আটকে যায়, অনেক সময় আবার জাল আটকে ছিড়ে যায়। কোথায় চর রয়েছে আর কোথায় চর নেই সেটা বোঝাও যায় না। বেশিরভাগ এলাকায় এ অবস্থা।

কাচিয়া ইউপি সদস্য মনির হোসেন বলেন, নদীতে ডুবোচরের কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাঁধও ঝুকির মধ্যে পড়েছে, কারণ জাহাজগুলো তীর ঘেঁষে যাওয়ায় ঢেউয়ে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাচিয়া ও ধনিয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, শীত মৌসুমে ডুবোচর থাকলেও এখন বর্ষায়ও রয়েছে সেই ডুবোচর। এতে নৌ পথে ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় স্রোত বেড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে নদীতীরের বসতি ও স্থাপনা।

এলাকাবাসী জানায়, নদীর ঢেউ চরে বাধাগ্রস্ত হয়ে পাল্টে গেছে নদীর গতিপথ। এতে স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। যে কারণে নদীর কূলে আছড়ে পড়ছে ঢেউ। আর তাই ঝুঁকিতে বাঁধের বেশ কিছু পয়েন্ট। এজন্য নদীতে ড্রেজিংয়ের দাবি করেছেন তারা।

উজান থেকে নেমে আসা পলির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান খান বলেন, জেলা সদরের অন্তত ১০ কিলোমিটার পয়েন্টে ডুবোচর রয়েছে। পুরো জেলায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় ডুবোচর ডেজিংয়ের একটি প্রকল্প রয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায়। সেটি হলে এ সমস্যা থাকবে না।

এদিকে খুব দ্রুত ডেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি এলাকাবাসীর।

সূত্র : ছোটন সাহা,বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অন্য খবর