১৫ই অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ওসি মনিরুজ্জামান—বদলে ফেলেছেন ‘ক্রাইমজোন’ মহিপুরের প্রেক্ষাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। সমুদ্র সৈকত এলাকা কক্সবাজার যখন সিনহা হত্যা মামলায় উত্তাল ও সমালোচনার মুখে পুলিশ বাহিনী; ঠিক তখন সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পুলিশ বাহিনী ভাসছে প্রশংসায়। এমনটা সম্ভব হয়েছে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামানের কর্মদক্ষতায়। মহামারি করোনায় দেশে লকডাউনের সময় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার দায়িত্ব নেন মনিরুজ্জামান।

যোগদানের পর থেকে করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও মাদক উদ্ধার অভিযানে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে জয় করে নেন মহিপুর এলাকার জনগনের মন। একের পর এক সাফল্য ও অপরাধে শাস্তির জন্য জিরোটলারেন্স ভূমিকা মহিপুরবাসীর মনে আস্থার প্রতীক হিসেবে খ্যাতি দেয়। এতে বাঁধ সাধেন স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ওসিকে তাড়ানোর চক্রান্ত শুরু করেন। মূলত, জমি দখল, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলকাজে হাত দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় মহিপুরে।

জানা গেছে, কুয়াকাটার পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লার প্রভাব খাটিয়ে ৭ নং লতাচাপলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা তাদের ভাই মোশারফ মোল্লা ও আবুল হোসেন মোল্লা একের পর এক সরকারি জমি, নৃগোষ্ঠি রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি দখল, চায়না প্রজেক্টে বালি ভরাট, টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারী কাজ, অবৈধ বালু উত্তোলন, সনদ ছাড়া বালু মহল ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছে।

এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য মোশারফ মোল্লা ও আবুল হোসেন মোল্লা ছিলেন বেপরোয়া। জানা গেছে গত জুলাই মাসে মহিপুর প্রেসক্লাব সভাপতি মনিরুল ইসলামের নিকট বালু ভরাট করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও চাঁদার টাকা না পেয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহিপুর থানার ওসির একান্ত প্রচেষ্টা ও সাহসিকতায় মোশরেফ মোল্লাকে মহিপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করে। এঘটানায় আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হলে মোশারেফ নিজেকে পরিবর্তন না করে আবারও দলবল নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

জানা গেছে, আবুল হোসেন মোল্লা ওরফে হোসেন মোল্লা পেশায় তাহেরপুর সরকারী প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক হয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। জমিজমার সালিসি, ভূমি দখল, ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি ভরাট, সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট তৈরী করে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসি রাখাইন অংসাচিং অভিযোগ করেন, আমাদের রেকর্ডিয় সম্পত্তি হতে ৪ একর জমি ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে নামজারি করে আবুল হোসেন মোল্লা ওরফে হোসেন মোল্লা, আবুল হোসেন, নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম। এরা সকলে রাখাইন সম্প্রদায়কে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করে সম্পত্তি দখল করে নেয়। এই ভুমিদস্যূ হোসেন মোল্লা ও তার দোসরদের প্রভাবের কারনে কেউ মুখ খোলার সাহস করে না।

জানা গেছে, মহিপুরের পূর্ব মধ্য আলীপুর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের ৭৬০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। ৯ আগস্ট হোসেন মোল্লা অবৈধভাবে স্কেভেটর দিয়ে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতীত প্রভাব খাটিয়ে ওয়াপদার জমি কেটে রাখাইনদের ওই জমি ভরাট করতে গিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলসের অপটিক্যাল ফাইবারের কিয়দংশ কেটে রাষ্ট্রের বিপুল বাণিজ্যিক ক্ষতিসাধন করে।

সাব মেরিন ক্যাবল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় মোল্লাদের প্রভাবে ও পেশি শক্তির ভয়ে মামলা দিতে গড়িমসি করলেও দ্রুত সময় মহিপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জের তৎপরতায় হোসেন মোল্লা ও আবুল হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ড করায় মামলা করে।

এলাকাবাসী জানায়, মহিপুর এলাকায় আতঙ্কের আরেক নাম মোশারফ মোল্লা ও আবুল হোসেন মোল্লা। তাদেরকে মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামন আটক করেছে। ওসি সাহেব সৎ মানুষ। তাঁর প্রচেষ্টায় আজ আমাদের এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। তাঁর সফল অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক ও চোরাকারবারির মাছের ব্যবসা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। রাষ্ট্রের বৃহৎ স্বার্থে পুলিশের তৎপরতা জনগনকে পুলিশের প্রতি আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।

মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মহামারি করোনায় দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও অপরাধের সংখ্যা কমছে না। মহিপুর এলাকা এক সময় সন্ত্রাসের অভয়ারন্য ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে মহিপুর সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছি। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ অপরাধে জড়িত হলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। এমনকি আমি যদি অপরাধে জড়িত হই তাহলে আমাকেও আইন ছাড় দিবে না। আমি এটাই বিশ্বাস করি।##

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অন্য খবর