১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ২রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘আহতদের ওপরও তাণ্ডব চালায় পুলিশ’

২১ আগস্ট শান্তির সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এক রক্তাক্ত প্রন্তর হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

তিনি বলেছেন, গ্রেনেডের আঘাতে আহত নেতাকর্মীরা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল, তখন তাদের ওপরও তাণ্ডব চালায় পুলিশ।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আহত হন বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি তখন দলের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

সেই ভয়াবহ, রক্তাক্ত পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেদিন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির মিছিল-সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ। মিছিল বের হবে এমন সময় যে ট্রাকে মঞ্চ করা হয়েছিলো সেই ট্রাক লক্ষ্য করে গ্রেনেড এসে পড়তে থাকে। ট্রাকের ওপর যে গ্রেনেড পড়েছিল তা না ফেটে নিচে পড়ে যায়। ট্রাকের সামনেও গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছিলো। লক্ষ্য ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিএনপি-জামায়াত, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর শাসন দীর্ঘায়িত করতে, পাকা পোক্ত করতেই এই হামলা চালানো হয়। এদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোই ছিলো তাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ট্রাকের ওপর গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটলে সে দিন শেখ হাসিনা প্রাণে বাঁচতেন না। মঞ্চে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ছিলেন তারাও বাঁচতেন না। জাতীয় নেতারা আহত হয়েছিলেন। ট্রাকের ওপর ছিলো এক ভয়াবহ অবস্থা। নিচে ছিলো আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি। গ্রেনেডের আঘাতে কারো হাত নেই, কারো পা নেই, শরীর থেকে মাংস খসে পড়ে গেছে। শত শত নেতাকর্মী রক্তাক্ত। চারিদিকে বীভৎস পরিস্থিতি। মনে হয়েছিলো আমরা কেয়ামতের মধ্যে আছি। এই কেয়ামত থেকে রক্ষা পাবো কিভাবে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা কি বাঁচতে পারবেন, আমরা কি বাঁচতে পারবো। গ্রেনেডের আঘাতে আদা চাচা, সেন্টু, কুদ্দুছ পাটোয়ারিসহ ২৩ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এই পরিস্থিতির মধ্যে শুরু হয় পুলিশের হামলা। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে আর লাঠিচার্জ করে। এক দিকে আহত রক্তাক্ত নেতাকর্মীরা মুত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছে, প্রাণে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে আর তার ওপর চলছে পুলিশের তাণ্ডব। মনে হলো যেনো আমরা যারা আহত হয়েছি তাদেরও শেষ করে দিতেই পুলিশের সেই হামলা। এটা ছিলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। হাওয়া ভবনের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্যই এই গ্রেনেড হামলা পরিচালিত হয়। এই সন্ত্রাসের শিকার হয়ে সেদিন আমরা যারা আহত হয়েছিলাম আজও আমরা শরীরে সেই স্প্লিন্টারের ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছি। সেই স্প্লিন্টার আমাদের জীবনের অংশ হয়ে আছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অন্য খবর