১৬ই অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বন্যার পানিতে কৃষকের সর্বনাশ

ঝালকাঠি সংবাদদাতা ।। ঝালকাঠির নলছিটি শহরতলীর মালিপুর এলাকার কৃষক সুমন কাজী (৪০) অন্যের ২০ একর জমি লিজ নিয়ে আমনের বীজ রোপণ করেছিলেন। নলছিটি-বারইকরণ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যে-কারো চোখ আটকে যেতো সবুজে ঘেরা তাঁর বীজতলা দেখে। অপেক্ষা সোনালী ধানের। লাভের আশায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এ কৃষক। বন্যায় সুগন্ধা নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ঢুকে পড়েছে তাঁর ফসলের ক্ষেতে।

এক সপ্তাহ ধরে পানি স্থায়ী হওয়ায় তাঁর আমনের বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বীজ বপণ করা এ চাষী। মঙ্গলবার সকালে তিনি পানি মধ্যে নিমজ্জিত বীজগুলো তুলে সংরক্ষণের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাকে ভাসমান বেড তৈরি করে বীজগুলো রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

একদিকে বীজ তোলা, অন্যদিকে কলার ভেলা তৈরির কাজ করছেন তিনি।

কৃষক সুমন কাজী বলেন, আমার সর্বনাশ। ২০ একর জমি লিজ নিয়ে অর্ধেক ফসলের বিনিময়ে। এনজিও ও ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বীজ করেছি। সব বীজগুলোই পানিতে তলিয়ে আছে। এখন কিছু বীজ তুলে ভাসমান বেডে রাখবো। অধিকাংশ বীজই নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। নতুন করে বীজ বপণ করতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। এতো বেশি পানি বৃদ্ধি আমার বয়সে দেখিনি।

শুধু সুমন কাজীই নয়, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের হাতেম আলীর (৬৫) ৫ একর, মোনাছেফ কাজীর (৫০) এক একর ও সুলতান আকনের (৫২) তিন একর জমির আমনের বীজ এক সপ্তাহ ধরে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এসব বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানি বৃদ্ধিতে ঝালকাঠি জেলায় ২১ হাজার ১৭৭ হেক্টরের ফসলের মধ্যে ১০ হাজার ৬১০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের আমন বীজতলা ২৯৪৮ হেক্টরের মধ্যে ১৮৮৭ হেক্টের, উফসি আমন বীজতলা ৩১৭ হেক্টরের মধ্যে ১৮৬ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। উফসী আমন ছয় হাজার ৫১৭ হেক্টর জমির মধ্যে দুই হাজার ৪৬৬ হেক্টর, আমন সাত হাজার হেক্টরের মধ্যে চার হাজার ৯৩০ হেক্টর, আউশ ধান সাত হাজার ১৩২ হেক্টরের মধ্যে ২৯৫ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও এক হাজার ৫৮০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন শাক সবজির প্রায় সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ মেট্রিকটন চাল, দুই লাখ টাকা ও এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করেছে। জেলা প্রশাসন কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বরাদ্দ ত্রাণ হিসেবে পৌঁছে দিবে।

ঝালকাঠির কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, পানিতে তলিয়ে থাকা আমনের বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যেভাবে পানি উঠছে, সেভাবে আবার নামছে না। পানি ফসলের ক্ষেতে আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এভাবে কয়েক দিন থাকলে ক্ষতি হতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পর্যাক্রমে সহায়তা করা হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অন্য খবর