৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং | ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভার্চুয়াল আদালত : ৫ দিনে বরিশাল বিভাগে ২৩২ আসামির জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বরিশালের নিম্ন আদালতে গত পাঁচ কার্যদিবসে সাড়ে ২৩২ বেশি আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৩১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আদালতে ৬১২টি জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়। এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বরিশাল বিভাগে ২৩২ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।

করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে আদালত বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সারা দেশে আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ক্রমেই সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ছে। এরইমধ্যে সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। গত ১০ মে নিম্ন আদালতে কেবল ভার্চুয়াল জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর থেকে নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল আদালতে জামিন শুনানি শুরু হয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে কেবল সীমিত আকারে নির্দিষ্ট কিছু আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩০ মে’র পর আদালতের সংখ্যা ও এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব আদালতে শুনানি গ্রহণ করা হচ্ছে।

এর আগে ভার্চুয়াল আদালত চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারির জন্য অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে। এই আবেদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির নির্দেশনার আলোকে আইন মন্ত্রণালয় গত ৯ মে ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে সশরীরে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ নামে গেজেট প্রকাশ করে। এই অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আদালতকে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

পরদিন ১০ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশে ভার্চুয়াল আদালত চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইদিনই ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালতের জন্য আলাদা আলাদা ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ এবং আইনজীবীদের জন্য ‘ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হয়। এসব নিয়ম মেনেই সারা দেশে আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অন্য খবর