৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং | ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বরূপকাঠিতে ফায়ার সার্ভিস ছোট গাড়ী ও ডুবুরীর অভাবঃ বঞ্চিত মানুষ

মো. নজরুল ইসলাম, স্বরূপকাঠি(পিরোজপুর) ।। স্বরূপকাঠিতে ফায়ার সার্ভিসের প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৩ লক্ষাধিক মানুষ। ছোট গাড়ীর (২য় কল গাড়ী) অভাবে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে স্বরূপকাঠি ফায়ার সার্ভিস। প্রবল আন্তরিকতা ও ইচ্ছা থাকা সত্বেও প্রকৃত সেবা দিতে পারছেনা ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। অনেক সময় জনতার রোষানলে পড়তে হচ্ছে তাদের। কখনো জনতার হাতে নাজেহালও হতে হচ্ছে বলে ষ্টেশনের কর্মীরা জানান।

একটি শিল্প ও বানিজ্য সমৃদ্ধ এলাকা স্বরূপকাঠি যা বর্তমানে নেছারবাদ। ১৯৯.১৫ বর্গ কিলোমিটারের ওই উপজেলা ১ টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। লোকসংখ্যা আড়াই লক্ষাধিক। তাছাড়া পার্শবর্তী বানারীপাড়া ও কাউখালী উপজেলার বিরাট এলাকা ওই উপজেলার সন্নিকটে হওয়ায় সেখানেও স্বরূপকাঠি ষ্টেশনের কাজ করতে হয়। স্বরূপকাঠি(নেছারাবাদ) উপজেলায় একটি বিসিক শিল্প নগরী, পৌর শহরের কেন্দ্রে জগন্নাথকাঠি, নদীর পশ্চিম পাড়ে ইন্দুরহাট ও মিযারহাট তিনটি বড় বন্দরসহ হাট বাজার রয়েছে ২৫ টি, পল্লী বিদ্যুতের ২ টি সাব স্টেশন, একটি স্পীরুলীনা কারখানা, বড় বড় জাহাজ নির্মানের ১৫ টি ডকইয়ার্ডসহ শতাধিক মিল কারখানা রয়েছে ওই উপজেলায়। বিশাল ছারছিনা দরবার, ৭ টি কলেজসহ দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। একটি প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত স্বরূপকাঠিতে বহু দেন দরবার আবেদন নিবেদনের পর নির্মান করা হয় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। সে সময় থেকে একটি পানিবাহী গাড়ী আর ১৩ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা করে আজো একই অবস্থানে রয়েগেছে। উপজেলার সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বেশির ভাগ হাট বাজারের সাথে সংযুক্ত সড়ক গুলো সরু বিধায় ওই গাড়িটি সর্বত্র যেতে পারেনা। ফলে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়। এতে সময় লেগে যাওয়ার কারনে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। অনেক সময় বিপদগ্রস্ত মানুষের রোষানলেও পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

এ বিষয়ে স্বরূপকাঠির ষ্টেশন অফিসার মো. আরিফুজ্জামান শেখ উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারেফ হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য বললে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয়। ইতোপূর্বে দফতরে পাঠানো কাগজপত্রের কপি জমাদেওয়ার দেওয়ার জন্যও বলেন।

ষ্টেশন অফিসার মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ভয়াল সন্ধ্যা নদী নেছারাবাদ উপজেলাকে দ্বিখন্ডিত করেছে। এ নদীতে প্রতিনিয়ত নৌকা ও নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটে। মারাযায় অনেক লোক। মানুষ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির জন্য ফোন করে। কিন্ত এখানে নদী ফায়ার ষ্টেশন না থাকায় ডুবুরীও নেই। বরিশাল থেকে ডুবুরী আনতে হয়। তিনি বলেন একটি ছোট গাড়ী (দ্বিতীয় কল গাড়ী) ও ডুবুরী নিয়োগ দেওয়া জরুরী।

এ বিষয়ে এলাকার সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম’র দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। দেশের তথা পৃথিবী জুড়ে করোনা সমস্যার কারনে অনেক কাজই করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

অন্য খবর